মনিরামপুর (যশোর)অফিস।। মনিরামপুরে ক্ষেতে কাজ করা তৃষ্ণার্ত কৃষকের তৃষ্ণা মেটাতে মহতি উদ্যোগ নিয়ে একটি নলকুপ স্থাপন করে দিলেন উপজেলা কৃষকপার্টির সভাপতি মোঃ তবিবার রহমান। উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শুলাকুড় নামক একটি বৃহৎ ফসলি মাঠে নিজস্ব অর্থায়নের তিনি এ নলকূল স্থপান করেন।
সরেজমিন জানাযায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী ১নং রোহিতা ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ সরদারের পুত্র তবিবার রহমান পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হলেও রাজনীতি করা তার একটি নেশা। তিনি দীর্ঘদিন উপজেলা কৃষকপার্টি ও ইউনিয়ন জাতীয়পার্টির সভাপতির দায়িত্ব করে চলেছেন। তাছাড়া নিজস্ব জমিতে ফসল উৎপাদন তার আয়ের অন্যাতম উৎস।
তার সব গুলো ফসলি জমি ওই ইউনিয়নের শুলাকুড় নামক একটি বিশাল মাঠে। এ মাঠের চারিদিকে রয়েছে উপজেলার এড়েন্দা, রাজবাড়ী লেবুগাতী, শিরালি ও সদর উপজেলার কল্যানদাহ রুদ্রপুরের অংশ বিশেষ। এখানে তারসহ প্রতিবেশির জমিতে সারা বছর দীনমজুর কৃষকেরা কাজ করে থাকে। শুকনা মৌসুমে দীনমজুর এই কৃষকেরা যখন ক্ষেতে কাজ করে-তখন তাদের খাবার পানি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার জন্য পানীর বড়ই অভাব দেখা দেয়।
বহু দূর থেকে এই পানি সংগ্রহ করতে হয়। তাদের এই দূরাবস্থা দেখে তবিবুর রহমান সেবা করার মন-মানুষিকতা নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে ওই মাঠে একটি নলকূপ স্থাপন করে দিলেন। সাথে-সাথে পানি পান করার পাত্রসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করার জন্য সাবানসহ আনুসাঙ্গিক দ্রব্যবাদি। জানতে চাইলে তবিবুর রহমান বলেন, গ্রীষ্মের প্রচন্ড রোদ্দুরে ক্লান্ত কৃষক যখন তৃষ্ণা মেটানোসহ অন্যান্য জরুরী কাজের জন্য মাঠের মধ্যস্থল থেকে গ্রামের দিকে ছুটে যায়-সেই দৃশ্য দেখে আমার অনেক কষ্ট লাগে।
কারণ আমিও একটি কৃষক পরিবারের সন্তান। গ্রীষ্মকালে কৃষক যখন সোনালী ফসল ফলানোর জন্য মাঠের জমিতে কাজ করে। তখন তাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমান ঘাম ঝরতে থাকে। তখন তাদের ঘন-ঘন তৃষ্ণা পাই। সেই সময়ে এক গøাস পানি তাদের কাছে অতিপ্রিয় হয়ে উঠে। ফিরে পায় নতুন করে কাজের উদ্যাম। দীনমজুর এই কৃষকদের কথা চিন্তা করে নলকুপটি স্থাপন করেছি। রাজনীতির ফায়দা লুটা বা জনগণের বাহা-বাহা পাবার জন্য নয়।